স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের তেতুলতলা এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রায় ৩১ শতাংশ জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জমির আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (২১ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, ফরিদপুরের সহযোগিতায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম।

জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার গঙ্গাবর্দী মৌজার এসএ ২০২৪ ও ২০২৫ দাগভুক্ত সওজের অধিগ্রহণকৃত ও রেকর্ডীয় জমিতে অবৈধভাবে মাটি ভরাট করে সেমিপাকা মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত হামজা (পিতা: মৃত আব্দুস সালাম), গ্রাম শলাকুন্ড, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছিলেন।
এ বিষয়ে সওজ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। অভিযান চলাকালে পাওয়া ইট ও বালু প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয় এবং প্রাপ্ত অর্থ সরকারি ট্রেজারি কোডে জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাফিজ তানজিম উপস্থিত থেকে সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে জমির সীমানা চিহ্নিত করে অভিযানে সহায়তা করেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল বা স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। পূর্বে একাধিকবার সতর্ক করার পরও নির্দেশনা অমান্য করায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাফিজ তানজিম বলেন, “সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জমি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। যথাযথ জরিপ ও সীমানা নির্ধারণের পর উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩১ শতাংশ সরকারি জমি উদ্ধার হয়েছে।”
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
