স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা শেখ মাহতাব আলী মেথুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা বেনজীর আহমেদ তাবরীজ। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তাঁর অংশগ্রহনের লক্ষ্যে তৎপরতার অভিযোগ তুলে এমন দাবি জানান। একই সাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামীলীগের চিহ্নিত নেতাদের প্রকাশ্যে পদচারণা নিয়ে প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ জানিয়েছেন তাঁরা।
জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করায় জেলা যুবদলের আয়োজনে আনন্দ মিছিল শেষে সমাবেশে এসব বলেন নেতৃবৃন্দ। আজ সোমবার (০৮ জুন) বিকাল ৫ টায় শহরের ব্রহ্মসমাজ সড়ক থেকে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক মুজিব সড়ক ধরে জনতা ব্যাংকের মোড় এলাকায় গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন দলটি।
এ সময় বক্তব্য রাখেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি (ফরিদপুর বিভাগ) ও ফরিদপুর মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ। তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করবেন বলে শহর জুড়ে বিভিন্ন ব্যানার ও বিলবোর্ডও টানিয়েছেন। অপরদিকে সাবেক মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু পুনরায় নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্যকালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন- ‘সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আমরা দেখতে পাচ্ছি- নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চিহ্নিত আওয়ামীলীগের দোসররা ফরিদপুরে পদচারণা করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে জানতে চাই- আপনারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমান নাকি। কিন্তু জাতীয়তাবাদী যুবদল ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখবে।
এ সময় তিনি সাবেক মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথুকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যায়িত করে এবং একাধিক মামলার বিষয় তুলে ধরে গ্রেপ্তারের দাবি জানান৷ তিনি বলেন- ‘সাবেক মেয়র মেথুকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাঁর নামে দুর্নীতির মামলা রয়েছে, মানিলন্ডারিং (অর্থ পাচার) মামলা রয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদলের একজন নেতাকর্মী বেঁচে থাকতে ফরিদপুরের মাটিতে তাঁর জায়গা হবে না। পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের দোসরদের প্রতিরোধ করতে হবে।’
সমাবেশে জেলা যুবদলের সঞ্চলনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণসহ সংগঠনটির বিভিন্নস্তরের নেতৃবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, শেখ মাহতাব আলী মেথু প্রায় ১১ বছর ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ফরিদপুর শহর আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি পদে ছিলেন। তিনি আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় অভিযুক্ত আসামী এবং বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। এ মামলায় আসামী হওয়ায় সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি।
