স্টাফ রিপোর্টার :
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে থানায়। এ মামলায় সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ ১২৬ জনের নাম উল্লেখসহ ৮৭৬ জনকে আসামী করা হয়েছে।
তবে এসব মামলায় কোনো আসামী গ্রেপ্তার নেই বলে থানার ওসি জানিয়েছেন।
রোববার দুপুর দেড়টার দিকে মামলা দুটি দায়েরের বিষয় নিশ্চিত করেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান। তিনি বলেন- গতকাল শনিবার পৃথক দুটি অভিযোগ করা হয়। তাঁর প্রেক্ষিতে রাতেই বিস্ফোরক দ্রব আইনে মামলা দুটি রুজু হয়েছে। এখনও কোনো আসামী গ্রেপ্তার নেই, তবে অভিযান অব্যাহত আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মামলা দুটিতে সাবেক দুই সংসদসহ ফরিদপুর-১ আসনের বিএনপি দুই মনোনয়ন প্রত্যাশীকেও আসামী করা হয়েছে। এরা হলেন সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ও মনোনয়ন প্রত্যাশী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, একটি মামলার বাদী হয়েছেন মজিবুর রহমান। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর সমর্থক। তাঁর দায়েরকৃত মামলায় ১৮৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০-২৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে৷ এ মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে।
মজিবুর রহমানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলে সাড়া না পাওয়ায় তাঁর অভিযোগ জানা সম্ভব হয়নি।
তবে এ প্রসঙ্গে শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ ৭ ই নভেম্বরের প্রোগ্রামে খন্দকার নাসিরের এর নির্দেশে দলীয় কার্যালয় হামলা লুটপাট চালানো হয়, এ সময় হামলাকারীরা আমাদের কর্মী সমর্থকদের ব্যবহৃত ১৮/২০ টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। অথচ মামলা নিলো আমাদের কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধেও ।
অপর মামলার বাদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। তিনি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক। তাঁর মামলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০০-৪০০ জনকে আসামী করা হয়েছে। এ মামলায় প্রধান আসামী হিসেবে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুকে (৬০) এবং দুই নম্বরে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনএমের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ মো. আবু জাফর (৮০)। এছাড়া তিন নম্বরে রয়েছে সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু (৭৫)। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং হুকুমদাতা হিসেবে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ মামলার বাদী সিরাজুল ইসলাম বলেন- ৭ নভেম্বর আমাদের বিকালের কর্মসূচির আয়োজন করা হয় এবং ঝুনু মিয়ার কর্মসূচি ছিল সকালে। কিন্তু আমাদের কর্মসূচিকে বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য উনারা বিকালে আয়োজন করে পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করে। যার পেছনে উস্কানি দিয়েছেন শাহ মো. আবু জাফর ও আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু। এই বাচ্চু সাহেবের ছেলের নেতৃত্বে খারদিয়া গ্রাম থেকে অস্ত্র নিয়ে লোকজন এসেছিল। এছাড়া তাঁর দায়েরকৃত মামলা ভিন্নদৃষ্টিতে নেয়ার জন্য পাল্টা মামলা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
দলীয় সুত্রে জানা যায়, আসামীদের মধ্যে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ও শামসুদ্দীন মিয়া ঝুনু ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দলের প্রাথমিক তালিকায় দুজনের কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। এই দুই গ্রুপের মধ্যে গত এক বছর যাবৎ রাজনৈতিক আধিপত্য চলে আসছিল।
যার প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকালে উপজেলা সদরের ওয়াপদা মোড় এলাকায় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে কর্মসূচি থেকে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকারীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি চাইনিজ কুড়াল, রামদা সহ দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। এ সংঘর্ষে শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু সমর্থিত উপজেলা বিএনপির একাংশের কার্যালয়ে ভাঙচুর সহ ১৫ টি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেন। এছাড়া আশপাশের অন্তত ১০টি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্ততপক্ষে অর্ধশত কর্মী সমর্থকেরা আহত হোন।
