ফরিদপুর : পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফরিদপুর জেলা। এ জেলার চাষীরা পেঁয়াজ উৎপাদন করলেও সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর তাদের লোকসান গুনতে হতো। বিষয়টি সরকারের নজরে আসলে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চাষীদের পেঁয়াজ সংরক্ষরণে বিনামূল্যে এয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এরই অংশ হিসেবে শনিবার (৩০ আগস্ট) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে জেলার চাষীদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মাঝে এয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়া হয়। জেলায় ৫শ চাষীকে এই মেশিন প্রদান করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ১শ ২০ জন চাষীকে প্রশিক্ষণ শেষে মেশিন দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ৫শ চাষীকে এয়ার ফ্লো মেশিন প্রদান করা হবে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খামারবাড়ি ঢাকার উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো: মুরাদুল হাসান, কৃষি বিভাগের লিগ্যাল এন্ড সাপোর্ট সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো: নজরুল ইসলাম সহ কৃষি বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সারাদেশে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৬ জেলায় ৩ হাজার ৭শ চাষীকে এয়ার ফ্লো মেশিন প্রদান করা হবে।
জেলার মধুখালী থেকে প্রশিক্ষণ নিতে আসা পেঁয়াজ চাষী আব্দুল মালেক বলেন, পেঁয়াজ উৎপাদনের পর সংরক্ষণ করতে সমস্যা হতো, একারনে ওই সময়ই কম দামে বিক্রি করে দিতে হতো। এই মেশিন পাওয়ায় আমাদের আর পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে সমস্যা হবেনা। আমরা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে ৬ মাস পরে বিক্রি করতে পারবো, তাতে আমরা লাভবান হতে পারবো। আমাদের আর লোকসান গুনতে হবেনা।
আরেক চাষী কাশেম মোল্যা বলেন, মেশিন দেওয়ার আগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে কিভাবে মেশিন পরিচালনা করতে হবে। কৃষি প্রধান জেলার চাষীরা অনেক উপকৃত হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো চাষীদের এই মেশিন দেওয়া হলে সবাই লাভবান হবে। পেঁয়াজ নষ্ট কম হলে আমাদেরও লাভ হবে, দেশেরও লাভ হবে। পেঁয়াজ আমদানী করতে হবেনা, ক্রেতারাও কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পারবে।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: শাহাদুজ্জামান জানান, পেঁয়াজ উৎপাদনের পর সংরক্ষণের অভাবে বিপুল পরিমান পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। একারনে চাষীদের মাঝে এয়ার ফ্লো মেশিন প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া মেশিন দেওয়ার আগে তাদের প্রশিক্ষনও দেয়া হচ্ছে, যাতে তারা পেঁয়াজ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারে।
তিনি আরো জানান, দেশে যে পরিমান পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে না পারায় নষ্ট হয়ে যায়, তার অর্ধেক চাহিদা আমদানী করতে হয়। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে আমাদের দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়েই দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
পেঁয়াজ সংরক্ষণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো: মাহফুজুর রহমান জানান, সারাদেশে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৬ জেলায় ৩ হাজার ৭শ চাষীকে এয়ার ফ্লো মেশিন প্রদান করা হবে। ফরিদপুরে দেওয়া হয়েছে ৫শ জন চাষীকে। প্রতিটি মেশিনের জন্য ২৭ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চাষীরা তাদের নিজেদের মতো করে মেশিন কিনতে পারবে। ভবিষ্যতে আরো চাষীকে এই মেশিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
