স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুর পশ্চিম খাবাসপুরের বড়বাড়ী (মাদ্রাসা বিল্ডিং) এলাকার ‘আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে’ ভর্তি থাকা আমিন খান (৪৫) নামের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর রিহ্যাব কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনেরা।

নিহত আমিন খান ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ছোলনা গ্রামের লোকমান খানের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক এবং দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে তিনি বোয়ালমারী বাজারে ‘আমিন খান ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রেস ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মানসিক ও আচরণগত কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে প্রায় ১০-১২ দিন আগে তাঁকে ‘আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে রিহ্যাব কর্তৃপক্ষ নিহতের পরিবারকে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ জানায়।
মুত্যুর খবর পেয়ে নিহতের স্বজনেরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের দুই হাত ও পায়ে দড়ি দিয়ে বাঁধার গভীর দাগ দেখতে পান। এ সময় নিহতের গায়ের বর্ণ হলুদ হয়ে দেখতে পায়।
নিহতের রবিউল খান ভাই অভিযোগ করে জানান, মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই অসংলগ্ন আচরণ করছে রিহ্যাব কর্তৃপক্ষ। নিহতের শরীরে স্পষ্টভাবে দড়ির দাগ থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করে সাধারণ মৃত্যুর রিপোর্ট তৈরি করেন। ঘটনার সময় উপস্থিত রিহ্যাবের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর কথা বলে স্বজনদের না জানিয়ে একাই থানায় চলে যান।
পরবর্তীতে স্বজনেরা রিহ্যাব সেন্টারে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, মৃত্যুর আগে গভীর রাতে আমিন খানকে হাত-পা বেঁধে উপর করে চেপে রাখা হয়েছিল এবং নির্যাতনের কারণে তিনি মারাত্মকভাবে ঘেমে যান। তবে সম্পূর্ণ ফুটেজ দেখতে চাইলে রিহ্যাব কর্তৃপক্ষ তা না দেখিয়ে সিসিটিভি রুম ত্যাগ করে।
তবে স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আল-করীম মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, তিনি জানান, নিহত আমিন খান রাতের বেলা ঘুমের সময় অন্যান্য রোগীদের নানাভাবে ডিস্টার্ব বা বিরক্ত করছিলেন। সকালের দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। রিহ্যাবে প্রাথমিকভাবে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়, তবে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বজনদের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; রিহ্যাব সেন্টারে শারীরিক নির্যাতন ও টর্চারের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তারা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কতৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
