স্টাফ রিপোর্টার :
ফরিদপুর শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত হলো ‘ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১ম যৌথ সভা’। নির্বাহী কমিটি, শ্রেণি প্রতিনিধি, উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, বিশেষায়িতসহ সব ধরনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সর্বসম্মতিক্রমে ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই অনুমোদনে আনুষ্ঠানিক রূপ পেল সংগঠনটি।
এছাড়াও খসড়া গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও অন্যান্য গৃহীত পরিকল্পনার প্রতি উপস্থিত সবাই হাত তুলে সমর্থন জানান। এছাড়া গত বছর ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি পুনর্মিলনীর আয়-ব্যয় সংক্রান্ত অডিট রিপোর্টও অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই মহতী উদ্যোগের সার্বিক সাফল্য কামনা করে বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও সাবেক শিক্ষার্থী ড. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম এবং ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ। অনুষ্ঠানে বক্তারা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে পূর্ণ একাত্মতা জানান। তারা সহস্র প্রাণের এই প্রাণবন্ত মিলনমেলায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
১৯৮৫ ব্যাচের আব্দুর রাকিবের কুরআন তেলাওয়াত এবং ১৯৮৮ ব্যাচের চিন্ময় করের গীতা পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা।

ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডাক্তার আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে, প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক রাজীব খানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব ওয়াহিদ মিয়া কুটি। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ১৯৮৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইফুজ্জামান চৌধুরী মুক্তা।
অ্যালামনাইয়ের পর্যালোচনা মূলক বক্তব্য দেন বেনজীর আহমেদ তাবরীজ, মনোয়ার সিকদার মান্নি, অ্যাডভোকেট আনসুল রেজা কুমকুম, গিয়াস উদ্দিন বুলবুল ও মামুন কবির। স্কুলের শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্পর্কে বলেন শিক্ষক নুরুল ইসলাম কাজল, সোহান জোয়ারদার ও মাহফুজুর রহমান বিপ্লব। স্কুলের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান।

ফরিদপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার মান বাড়াতে আপাতত যেসব করণীয় ঠিক করা হয় তা হলো:
১. যেকোনো বন্ধের দিনে অভিভাবকদের ডেকে শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা করা। এতে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে
২. অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচিত করা।
৩. প্রতি বিষয়ের ওপর ৭৫% উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
৪. স্কুলের ক্লাস টাইমে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা।
৫. পরপর দুই দিন ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে অভিভাবকদের উপস্থিত হয়ে দরখাস্ত জমা দেওয়া।
৬. টিফিন টাইমে স্কুলের বাইরে যেতে না দেওয়া, খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং বিশেষ প্রয়োজনে গেটপাস প্রথা চালু রাখা।
৭. অভিভাবকদের অবগত করতে হবে যে, ক্লাস সেভেন থেকে টেন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট করানো হবে। মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সভা, সেমিনার ও কাউন্সিলিং করা।
৮. বিভিন্ন ক্লাব যেমন-বিজ্ঞান ক্লাব, গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস ক্লাব, ডিবেট ক্লাব, সোশাল ওয়েলফেয়ার ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, রোভার স্কাউট ক্লাব ইত্যাদির কার্যক্রম বা অ্যাক্টিভিটি বাড়ানো।
৯. শিক্ষকদের মান যাচাই প্রক্রিয়া চালু করা।
১০. যেকোনো এক বিষয়ে ফেল করলে ওপরের ক্লাসে উঠতে না দেওয়া। টেস্ট পরীক্ষায় কমপক্ষে গড়ে ৬০% মার্ক না পেলে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া। যেকোনো সুপারিশ বা তদবির অগ্রাহ্য করা নিশ্চিত করা।
১১. সিসি ক্যামেরার আওতায় স্কুলকে আনা এবং সবসময় মনিটরিং করা।
স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য বিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক এবং অভিভাবক সবাইকেই সমন্বিত ভূমিকা রাখতে হয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত করতে নিম্নে কার্যকর কিছু কৌশল বিবেচনা করা যেতে পারে:
আকর্ষণীয় ও অংশগ্রহণমূলক শিখন পদ্ধতি
• মাল্টিমিডিয়া ও দৃশ্যমান উপকরণের ব্যবহার: শুধু একটানা বক্তব্য না দিয়ে অডিও-ভিডিও, ডায়াগ্রাম বা মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন ব্যবহার করলে পাঠদান প্রাণবন্ত হয়।
• ইন্টারেক্টিভ লার্নিং: গ্রুপ ডিসকাশন, কুইজ প্রতিযোগিতা, রোল-প্লে এবং প্র্যাকটিক্যাল প্রজেক্টের মাধ্যমে ক্লাসে সবাইকে সম্পৃক্ত রাখলে তারা স্কুলে আসতে আগ্রহী হয়।
ইতিবাচক পরিবেশ ও মানসিক বন্ধন
• ইতিবাচক উৎসাহ প্রদান: অনুপস্থিতি বা পড়া না পারার জন্য কঠোর শাস্তির চেয়ে নিয়মিত উপস্থিতির জন্য প্রশংসাপত্র বা ছোটখাটো পুরস্কারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
• সহানুভূতিশীল শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক: শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও মানসিক অবস্থা বুঝে তাদের কথা শোনার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম
স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্কাউটিং এবং সায়েন্স ক্লাব বা আর্ট ক্লাবের মতো কার্যক্রম চালু রাখলে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসার প্রতি বাড়তি আগ্রহ পায়।
অভিভাবক ও স্কুলের নিয়মিত যোগাযোগ
• এসএমএস/ডিজিটাল ট্র্যাকিং: শিক্ষার্থী স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে সাথে সাথে অভিভাবকদের মেসেজ পাঠালে তা উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখে।
• নিয়মিত প্যারেন্ট-টিচার মিটিং (PTM): অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত সভা করে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা উচিত।
মৌলিক সুবিধা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ
স্কুলে নিরাপদ সুপেয় পানি, পরিষ্কার টয়লেট এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের অভাব থাকলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই এসব অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ক্যারিয়ার গাইডেন্স ও বাস্তবজীবনের গুরুত্ব
স্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং নিয়মিত উপস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে লাইফ স্কিল ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেশনের আয়োজন করা দরকার। পড়ার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হলে তাদের আসার আগ্রহ বাড়ে।
