স্টাফ রিপোর্টার:
বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৭.৮ লাখ শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যার মধ্যে ১০ লাখেরও অধিক শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত রয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে আজ রবিবার বেলা ১১ টার দিকে ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়্যুথ এনগেজ এন্ড সাপোর্ট গ্রুপ (ইয়েস) ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি)-এর সদস্যসহ বিভিন্ন শিশু সংগঠন, পেশা ও শ্রেনীর শকাধীক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সেখানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য নীতিগত অঙ্গীকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও শিশুশ্রম এখনও একটি গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে। বাংলাদেশে শিশুশ্রম মূলত অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বেশি কেন্দ্রীভূত, যেখানে কর্মরত শিশুরা সংশ্লিষ্ট আইন/ নিয়ম-নীতির বাইরেই থেকে যায়। অপ্রাতিষ্ঠানিক এই খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাস্তায় পণ্য ফেরি, কারখানায় শ্রমিকের কাজ এবং বিশেষভাবে বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ।
শুরুতেই বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বক্তব্য রাখেন প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ খান বাদল। মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন শিশু সংগঠন ফুলকি এর সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল আজম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান দৃঢ় কিন্তু অনেক শিশু আছে যাদের আয়ের উপর অনেক সময় তাদের পরিবার নিভ©র করে, তাই শিশুশ্রম বন্ধে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা, পারিবারিক সুরক্ষা এই বিষয়গুলোকেও নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তব্য রাখেন শিশু সংগঠন খেলাঘর ফরিদপুরের সভাপতি আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন বাংলাদেশে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। বিশেষ করে বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কাজে শিশুদের ব্যবহার তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। বিষাক্ত বর্জ্য, ধারালো বস্তু ও রোগজীবাণুর সংস্পর্শে এসে এসব শিশু প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করছে। তাই শিশুশ্রম বন্ধে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে বিশেষ করে রাস্ট্রকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সরকারের কাছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম নিরসনে পাঁচটি ধারার অধীনে সাতটি সুপারিশ তুলে ধরেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সদস্য মাহবুবুর রহমান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা দ্রুত হালনাগাদ করা, যেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম নিরসনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে; পাশাপাশি এ খাতের শিশু শ্রমিকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা মূল্যায়ন সাপেক্ষে বিকল্প কর্মকৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা; বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে মর্যাদাপূর্ণকর্মক্ষেত্র ও শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শিশুশ্রম নির্মূলে শ্রম আইন, ২০০৬ প্রয়োগ করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার লক্ষ্যে জনগণকে সচেতন করতে ব্যাপকভাবে প্রচারণা কার্যক্রম গ্রহণ করা। তিনি বলেন, আজকের এই মানববন্ধনের মূল উদ্দেশ্য হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে লাল কার্ড । মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি শিশুশ্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো: গোলাম মোস্তফা। এ সময় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা “শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখাই, শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি” স্লোগান তুলে শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে পরবর্তী পর্বে একটি র্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে ।
