বিশেষ প্রতিবেদক : পুলিশ সুপার মো. আব্দুর জলিল (পিপিএম)। তিনি তার ফরিদপুরের দেড় বছরের কর্মময় জীবনে দায়িত্ব শেষ করলেন। সরকারি অাদেশে বদলি হয়েছেন পিবিআই পুলিশ দপ্তরে।
যিনি রেখে গেছেন তার কর্মময় জীবনের সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা, মানবিকতা আর পেশাদারিত্বের অমলিন চিত্র।
শনিবার রাতে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে তার বদলিজনিত বিদায় অনুষ্ঠানে জেলা কর্মরত সকল গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মান, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন তিনি। ক্লাবের পক্ষ থেকে দেওয়া হলো তাকে ফুল, ক্রেস্ট আর জেলার ঐতিহ্য নকশি কাঁথা। এর আগে বিকালে ফরিদপুর পুলিশ লাইনসে এক আবেগঘন পরিবেশে বিদায়ী পুলিশ সুপারকে চৌকস পুলিশ দলের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সেখানে দায়িত্বপালনের সময়ে তাঁর মানবিক আচরণ, পেশাদার দক্ষতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্মরণ করেন সহকর্মীরা।

সাংবাদিকদের আবেগময় ও স্মৃতিচারনে প্রত্যেকের কথায় ফুটে উঠেছিল পুলিশের এই কর্মকতার দেড় বছরের ঘটনাবহুল স্মৃতি।
তার মাববিকতায় শুধু গণমাধ্যম কর্মীরাই নয় জেলা বিচার প্রার্থীদের শেষ আশ্রয়স্থলে দায়িত্বরত পুলিশ অফিসারের উপর নির্ভরতার কথা ।

গত বছরের (২৪) ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুস্থানে পর ভেঙ্গে পড়া পুলিশিং ব্যবস্থাকে স্বরুপে ফিরিয়ে আনার সফল কারিগড় পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল। তিনি দিনরাত জেলার নয়টি উপজেলার প্রত্যেকটি থানার পুলিশ সদস্যদের দেশ-সমাজ ও মানুষের নিরাপত্তার কাজে মনোযোগি হওয়ার সাহস যুগিয়ে ছিলেন সর্বত্র ।
তার ঐকান্তি প্রচেষ্টায় জেলাবাসীর জীবন-মানের নিরাপত্তা ধীরে ধীরে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেন তিনি।
তার সাহসে শুরু হয় বাহিনিটির সদস্যদের রাতভর নাগরিকদের নিরাপত্তার দেওয়া, মহাসড়কের ডাকাতির প্রতিরোধ। রাতের অন্ধকারেও পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধিতে নিজেই থেকেছেন রাজপথে । খোঁজ নিয়েছেন সাধারন মানুষের ।
শুধু এটাই শেষ নয়, তিনি দুস্কৃতিকারীদের কাছে ছিলেন মুর্তিমান আতংকের নাম। পুলিশের এই দক্ষকর্মকর্তা ফরিদপুরে দায়িত্ব পালনে পিছুপা হননি মাদক কারবারিদের রুখতে। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছিলো তার প্রকাশ্যে ঘোষনা।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নিবাহী কমিটির সদস্য ও সময় টেলিভিশনের সংবাদকর্মী বি কে সিকদার সজল তার স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বলেন, পুলিশের এই কর্মকর্তা ফরিদপুরে দায়িত্ব পালনের সময় তিনটি নিয়োগ দিয়েছিলেন মাত্র দশ টাকার বিনিময়ে । যা সত্যিকার অর্থে অবিশ্বাস্য। সরকারি চাকরি পাওয়া ক্ষেত্রে তিনি নজির সৃষ্ট করে ছিলেন ।
একই সুরে বিদায় সংবর্ধনায় কথা বললেন ফরিদপুর প্রথম আলো নিজস্ব প্রতিবেদক পান্না বালা। তিনি বলেন, তার সময়ে জেলাবাসি পুলিশ বিভাগের সুশাসন পেয়েছে। তার মতো কর্মবীর দেশের প্রতিটি জেলায় থাকলে দেশ আরো সমৃদ্ধ হতো, মানুষ পেতো পুলিশের কাছে নিরাপত্তার আস্থা।
বদলিজনিত বিদায় অনুষ্টানে স্মৃতিচারন করতে গিয়ে সমকালের নিজস্ব প্রতিবেদক হাসানউজ্জামান বলেন, দুষ্ঠুদের কাছে তিনি ছিলে যেমন আতংকের নাম, তেমন অসহায় মানুষের কাছে ভরসার জায়গা । তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অব্দি ধৈযের সঙ্গে শুনেছেন সাধারন মানুষে কথা, নিয়েছেন তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা ।
বিদায়ী পুলিশ সুপারের দেড় বছরের কর্মময় জীবনের স্মৃতি চারন করতে গিয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও স্থানীয় দৈনিক নাগরিক বার্তার সম্পাদক মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, গণআন্দোলনের পর নিস্ত্রিয় পুলিশকে সক্রিয় করতে তার কথা জেলার কেউ ভুলবে না। তিনি তার দক্ষতা দিয়ে বেশ কয়েকটি বড় আন্দোলনকে প্রাণহানি ছাড়াই সামাল দিয়েছেন ।বিশ্বাস করি পুলিশ বিভাগ তার এই কর্মের ফলাফল দিবেন।

গণমাধ্যমকর্মিদের এই নেতা আরো বলেন, এক কথায় তিনি ছিলেন যেমন সাংবাদিক বান্ধব তেমন জনবান্ধব পুলিশ কর্মকতা । বিদায়ী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল পিপিএম বলেন “ফরিদপুরে দায়িত্ব পালন করতে পেরে আমি গর্বিত, কর্মজীবনে আমি অনেক জেলায় কাজ করেছি তবে ফরিদপুরের গণমাধ্যম কর্মীদের মতো সহায়ক অন্য কোথাও মেলেনি, এরা যেমন দেশে প্রেমিক তেমনি সমাজের প্রতিদায়িত্ববোধ নিয়েকাজ করে, যা একজন সরকারি কর্মকতার কাজের জন্য বড় ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, আমি চেষ্টা করেছি এখানে কর্মরত প্রত্যেক সদস্য আমার পরিবারের মতো। আপনাদের সহযোগিতা, পরিশ্রম ও নিষ্ঠার কারণেই আমি কাজগুলো সফলভাবে শেষ করতে পেরেছি। আপনাদের কর্মজীবন, পরিবার ও ভবিষ্যৎ পথচলা যেন শান্তিময় ও সফল হয়—এই আমার আন্তরিক কামনা।”
