স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাই কোর্ট।

একটি রিট শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) সংশ্লিষ্ট ১৯ জন বিবাদীকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের কারণ দর্শানোর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।
আদেশের বিষয়ে শাহীনুজ্জামান বলেন, আদালত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়নি। তবে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলেছে।
হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ এনে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করে।
আবেদনে ইশতিয়াকের পরিবারের জন্য ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
পাশাপাশি হেফাজতে নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন আইনবহির্ভূত ও ক্ষমতাবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়।
রিট আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুন বিকালে ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্ধারদিয়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে নিজ বাড়ির সামনে থেকে ইশতিয়াককে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে এ ইউনিটের হেফাজতে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন ২১ জুন সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া প্রান্ত ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ফরিদপুর চিনিকলে মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
তার বাবা সম্প্রতি মারা যাওয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি মধুখালী চিনিকলে চাকরি করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।
ইশতিয়াকের মৃত্যুর দিন ২১ জুন সকালে ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহাদুজ্জামান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন।
এ মামলায় দাবি করা হয়, ইশতিয়াকের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারের সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই ঘটনাটিকে ‘হেফাজতে মৃত্যু’ হিসেবে অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারও চাওয়া হয়েছে।
