স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চর খোলাবাড়িয়া গ্রামে নদীভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তিনি সরেজমিনে নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে চর খোলাবাড়িয়া এলাকায় আলহেরা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন এমপি ইলিয়াস মোল্লা।
এ সময় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং স্থানীয়দের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে তিনি অবগত হন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন আলহেরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রব, শিক্ষক সেকেন্দার খান, চর খোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর খান, মাহবুবুর রহমান মিয়া, আল আমিন মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এদিকে নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
স্থানীয়রা জানান, চর খোলাবাড়িয়া এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা, মোকসেদ মোল্লা এতিমখানা, পোস্ট অফিস, চর খোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান রক্ষায় দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অল্প সময়ের মধ্যে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
ফরিদপুর- ১ আসনের সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস মোল্লা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং নদীভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
তিনি বলেন, ফরিদপুরে পদ্মা, মধুমতী ও কুমার নদীর ভাঙনে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এসব নদীকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তাঁর সংসদীয় আসনের শত মাইলেরও বেশি এলাকাজুড়ে নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে মানুষ ভাঙনের শিকার হচ্ছেন। এতে বসতভিটা, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ছে এবং অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নদীভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সংসদেও কথা বলেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
