স্টাফ রিপোর্টার:
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলূলক কর্মসূচি পালন করেছে নারী উন্নয়ন সংস্থা নন্দিতা সুরক্ষা। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের মোতলেব হোসেন হাই স্কুলে আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করা হয়। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহায়তায় নন্দিতা সুরক্ষার RWVL-B প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীরা সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে র্যালিতে অংশ নেয়। ‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করো, শিশুর অধিকার রক্ষা করো’—এমন স্লোগানে তারা ডিক্রিচর ইউনিয়নের ভাঙ্গী ডাঙ্গী ও কাজেম মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে। এ সময় বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে পরিবার ও সমাজের সবাইকে এ সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভায় বাল্যবিবাহের কারণে কন্যাশিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, শিক্ষাজীবন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কীভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে কন্যাশিশুর শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা, কিশোরীদের নিরাপদ চলাচল, তাদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তুলতে অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ১৩ বছর বয়সী কন্যাশিশু তাজনিমের হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ প্রসঙ্গ তুলে ধরে আয়োজকেরা বলেন, কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। একটি শিশুর পোশাক, চলাফেরা, আচরণ কিংবা বয়স কখনোই তার প্রতি যৌন সহিংসতা বা হত্যার ঘটনাকে ন্যায্যতা দিতে পারে না।
নন্দিতা সুরক্ষার প্রকল্প ব্যবস্থাপক জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, “বাল্যবিবাহ ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে নন্দিতা সুরক্ষার সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, “প্রতিটি কন্যাশিশুর নিরাপদে বেঁচে থাকা, শিক্ষা গ্রহণ এবং মর্যাদার সঙ্গে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তাজনিমের মতো শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য দেখলেই বোঝা যায়, কীভাবে ভুক্তভোগী শিশুর প্রতি সহিংসতাকে স্বাভাবিক করার এবং অপরাধের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। একটি শিশুর পোশাক, চলাফেরা, আচরণ কিংবা বয়স—কোনোটিই তার প্রতি যৌন সহিংসতা বা হত্যাকে ন্যায্যতা দিতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, এই মানসিকতার পরিবর্তন এবং কন্যাশিশুর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি প্রতিষ্ঠায় নন্দিতা সুরক্ষা কাজ করে যাচ্ছে।
আয়োজকদের মতে, কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সহিংসতা বন্ধ এবং কন্যাশিশুর মতামত ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেই তাদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
