স্টাফ রিপোর্টার :
শীতকালে অনেকেরই হাত খসখসে হয়ে যায় বা ফেটে যায়। এর মূল কারণ হলো, ঠান্ডা আবহাওয়ায় বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায় এবং ত্বক তার প্রাকৃতিক তেল (লিপিড) বা আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে না। ত্বকের বাইরের স্তর আসলে এক ধরনের সুরক্ষা দেয়াল, যেখানে থাকে প্রাকৃতিক তেল আর পানি। শীতের শুষ্ক বাতাস, ঠান্ডা তাপমাত্রা আর আমাদের বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস, গরম পানি ও সাবানের ব্যবহার এই সুরক্ষা দেয়ালকে দুর্বল করে ত্বককে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে ত্বক শুষ্ক হয়, ফেটে যায় এবং জ্বালা বা সংক্রমণের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
শীতে হাতের রুক্ষতা দূর করে কোমলতা ফিরিয়ে আনতে নিচের ১০টি পরামর্শ মেনে চলুন –
১. অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করবেন না গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল দ্রুত শুষে নেয়। তাই হাত ধোয়ার সময় অতিরিক্ত গরম পানির বদলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন, এতে লিপিড স্তরের ক্ষতি কম হয় এবং অতিরিক্ত জলীয় অংশ বেরিয়ে যাওয়া আটকায়। বেশিক্ষণ ধরে হাত ধোবেন না। হাতে কম সময় পানি লাগলে ত্বক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২. ক্ষারযুক্ত সাবান বাদ দিন সাধারণ কড়া সাবান ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এর বদলে ময়েশ্চারাইজার যুক্ত বা ‘পিএইচ ব্যালেন্সড’ (pH-balanced) কোমল ক্লিনজার ব্যবহার করুন। এগুলো ত্বককে শুষ্ক না করেই পরিষ্কার করে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্নিগ্ধতা-যোগকারী (emollient) উপাদানযুক্ত ক্লিনজার শীতে শুষ্ক ত্বকের জন্য ভালো এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ত্বকের অবস্থার উন্নতি করে।
৩. হাত ধোয়ার পরই ময়েশ্চারাইজার লাগান হাত ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মোছার ২-৩ মিনিটের মধ্যেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের আর্দ্রতা আটকে রাখতে সাহায্য করে। পেট্রোলিয়াম জেলি বা গ্লিসারিন যুক্ত লোশন বেশ কার্যকর।
৪. সঠিক ক্রিম বেছে নিন পাতলা লোশনের চেয়ে ভারী ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট শীতকালে বেশি ভালো কাজ করে। হাত বেশি ফাটলে রাতে পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভ্যাসলিন এবং দিনের বেলা ঘন ক্রিম ব্যবহার করুন।
৫. গ্লাভস পরে কাজ করুন থালাবাসন ধোয়ার লিকুইড বা ডিটারজেন্ট হাতের ত্বককে রুক্ষ করে তোলে। তাই পানি ও সাবানের কাজ করার সময় ওয়াটারপ্রুফ বা রাবারের গ্লাভস পরার অভ্যাস করুন। রাতে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে কটন গ্লাভস পরলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।

৬. স্যানিটাইজার ব্যবহারে সতর্ক হোন স্যানিটাইজার প্রয়োজনীয় হলেও হাতে শুষ্কতা বাড়ায়। অ্যালকোহল যুক্ত স্যানিটাইজার ত্বককে আরও শুষ্ক করে দেয়। হাত যদি আগে থেকেই রুক্ষ হয়ে থাকে, তাহলে স্যানিটাইজার শুকিয়ে যাওয়ার পরপরই হাতে ময়েশ্চারাইজার মাখুন। সম্ভব হলে ময়েশ্চারাইজার যুক্ত স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
৭. সুগন্ধিযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলুন কৃত্রিম সুগন্ধি বা প্রিজারভেটিভ ত্বকে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে, যা শীতে আরও বেড়ে যায়। তাই সেনসিটিভ বা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য গন্ধহীন পণ্য ব্যবহার করাই নিরাপদ। যদি ময়েশ্চারাইজ করার পরেও জ্বালা চলতে থাকে, তবে হাইপোঅ্যালার্জেনিক পণ্য ব্যবহার করুন এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন।
৮. ঘরের বাতাস আর্দ্র রাখুন শীতে ঘরের বাতাস খুব শুকনো থাকে। আর্দ্রতা একটু বাড়ালে ত্বক অনেকটা আরাম পায়। হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করে ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা বজায় রাখার চেষ্টা করুন।

৯. কাজের প্রয়োজনে বারবার হাত ধোয়ার নিয়ম হাসপাতাল, রান্নাঘর বা এমন কোনো কাজে থাকলে যেখান হাত ধোয়া বেশি লাগে, সেক্ষেত্রে নরম সাবান ব্যবহার করুন এবং হাত শুকানোর সঙ্গে সঙ্গে ময়েশ্চারাইজার লাগান। সম্ভব হলে দস্তানা পরুন।
১০. প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন যদি হাত ফেটে রক্ত বের হয়, তীব্র ব্যথা হয় বা ইনফেকশন দেখা দেয়, তবে দেরি করবেন না। এক-দুই সপ্তাহেও ঘরোয়া যত্নে কাজ না হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। চিকিৎসা না করালে ফাটলগুলো ব্যাকটেরিয়া ঢোকার পথ তৈরি করতে পারে।
শীতে হাত নরম ও সুস্থ রাখতে খুব বড় কিছু করার দরকার নেই। প্রতিদিনের এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো মেনে চললেই শীতে আপনার হাত থাকবে কোমল ও সুন্দর । তথ্য সূত্র-দেশকাল নিউজ
