মো. মাহবুবুর রহমান:
শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর। একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। তাই প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। এ উপলক্ষে রাজনৈতিক নেতারাও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এসব প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবে রূপ নেয়?
প্রায় প্রতিবছরই দেখা যায়, শিক্ষকরা তাঁদের ন্যায্য দাবি নিয়ে সোচ্চার হন। রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধী দলে থাকাকালে শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়। শিক্ষকরা আশায় বুক বাঁধেন এবং নির্বাচনের সময় নিজেদের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেক প্রতিশ্রুতিই ধীরে ধীরে বিস্মৃত হয়। পরবর্তী নির্বাচন সামনে এলে একই ধরনের আশ্বাস আবার ফিরে আসে। এভাবে প্রতিশ্রুতির চক্র চলতে থাকে, অথচ শিক্ষকদের মৌলিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান হয় না।
শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবিও নতুন নয়। ২০১০ সালের ১২ মে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সারা দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের এক সম্মেলনে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় গেলে শিক্ষকদের জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিলেন বলে শিক্ষকসমাজে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধাপে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের আওতায় এসেছে। কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে সরকারিকরণের ফলে বৈষম্য দূর হওয়ার পরিবর্তে কোথাও কোথাও নতুন বৈষম্যেরও সৃষ্টি হচ্ছে।
এরপরও শিক্ষকদের জাতীয়করণ ও আর্থিক নিরাপত্তার দাবি রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে এসেছে। ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সমাবেশে বিদেশে অবস্থানরত তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শিক্ষকদের দাবির প্রতি নীতিগতভাবে সমর্থনের কথা জানান। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানো, চাকরি স্থায়ীকরণ কিংবা জাতীয়করণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠন করা হবে। পরবর্তীতে ১৮ অক্টোবরও শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির প্রতি নীতিগত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
ফলে প্রশ্নটি শুধু কে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা নয়; বরং দীর্ঘদিনের এসব প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেগুলো কীভাবে বাস্তব নীতিতে রূপ নেবে—সেটিই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারিকরণের ক্ষেত্রে শুধু প্রতিষ্ঠানকে বিবেচনায় নেওয়া হলে সেখানে কর্মরত শিক্ষকদের অবস্থান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। শহরের অনেক স্কুল-কলেজে তুলনামূলক ভালো একাডেমিক ফলাফল ও যোগ্যতা নিয়ে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ সরকারিকরণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে কিছু গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানের তুলনামূলক কম যোগ্যতার শিক্ষকও সেই সুবিধার আওতায় আসছেন। এর ফলে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে—একজন শিক্ষার্থী তাঁর প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের সুবিধা পেলেন, অথচ সেই শিক্ষার্থীর শিক্ষক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেই রয়ে গেলেন। একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করা একজন শিক্ষক সুবিধা পেলেন না, অথচ তাঁর ছাত্র পেলেন। বিষয়টি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—উভয়ের জন্যই বিব্রতকর।
এ ক্ষেত্রে শ্রীপুরের আমলসা ইউনিয়নের টিকেরবিলার পাশে আরুয়াকান্দি ওয়াপদার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত একটি কলেজের উদাহরণ প্রাসঙ্গিক। কলেজটির যোগাযোগব্যবস্থা তেমন উন্নত নয়, আশপাশেও উল্লেখযোগ্য কোনো স্থাপনা নেই এবং শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য নয়। অথচ প্রতিষ্ঠানটি সরকারি সুবিধা পাচ্ছে। তাই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের আগে শুধু প্রতিষ্ঠান বা জনবলের বিষয় নয়, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা, যাতায়াতব্যবস্থা, শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীসংখ্যা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া কি অধিক যৌক্তিক নয়? শেষ পর্যন্ত সরকারি বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।
সরকারিকরণের উদ্দেশ্য যদি হয় শিক্ষার মানোন্নয়ন, বৈষম্য হ্রাস এবং শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাহলে শুধু প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিচ্ছিন্ন সরকারিকরণ কতটা কার্যকর—সেটি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। কারণ প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত এসে দাঁড়ায় সেখানে কর্মরত শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে।
এই বৈষম্যের সঙ্গে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গভীরভাবে জড়িত। শিক্ষকদের সবচেয়ে বেদনাদায়ক সমস্যাগুলোর একটি হলো চাকরিজীবন শেষে প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার অনিশ্চয়তা। কর্মজীবনে বেতন থেকে নিয়মিত অর্থ কর্তন করা হলেও অবসর ও কল্যাণ ভাতা পেতে অনেক শিক্ষককে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। অফিসের পর অফিসে ঘুরতে ঘুরতে অনেকের জীবনের শেষ সময়টুকুও কেটে যায়। কেউ কেউ প্রাপ্য অর্থ হাতে পাওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। অথচ অবসরের পর এই অর্থই অনেক শিক্ষকের শেষ সম্বল।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার জন্য বর্তমানে মোট ১০ শতাংশ অর্থ কর্তন করা হয়। আগে এ হার ছিল ৬ শতাংশ। কর্তনের হার বাড়লেও সেই অনুপাতে সুবিধা না বাড়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ কর্তনের প্রতিবাদে শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন করেন এবং তৎকালীন কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য-সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজুকে দায়ী করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থানে থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কল্যাণ ট্রাস্টের দায়িত্ব পালনকালে তাঁর ভূমিকা এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এই প্রসঙ্গেই ২০২৬ সালের এপ্রিলে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর থেকে অনেক শিক্ষক অবসর ও কল্যাণ ভাতা পাচ্ছিলেন না। একই সময়ে সংসদে তিনি জানান, প্রায় ৫৯ হাজার ৮২০টি আবেদন তখনো নিষ্পত্তিহীন ছিল এবং এসব আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা প্রয়োজন।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি অবসর সুবিধা পেতে শিক্ষকদের দীর্ঘসূত্রতার শিকার হতে হয়, তাহলে বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এত বড় অঙ্কের অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে যখন সরকারের পক্ষ থেকেই গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তখন এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অর্থের হিসাব প্রকাশ এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। কার দায়িত্বে কী ঘটেছে, কার কী ভূমিকা ছিল এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের কষ্টার্জিত অর্থের প্রকৃত অবস্থা কী—তা স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
শিক্ষকদের আর্থিক অনিশ্চয়তার প্রভাব শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। দেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। এদের বড় একটি অংশ নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যদি আর্থিক ও পেশাগত অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন, তার প্রভাব কোনো না কোনোভাবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপর পড়বেই। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের সন্তানদের ক্ষেত্রে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের কারণে এসব পরিবারের সন্তানদের অনেক সময় বেসরকারি স্কুল-কলেজে তুলনামূলক বেশি খরচে পড়াশোনা করতে হয়। শিক্ষকদের অনিশ্চয়তা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপরই অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। তাই বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি শুধু একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীর দাবি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি দেশের শিক্ষার মান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন কাঠামোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডিতে কোথাও কোথাও শিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার চেয়ে স্থানীয় প্রভাব, ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের প্রভাব বেশি গুরুত্ব পায়—এমন অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধানও নিজের পছন্দের মানুষদের কমিটিতে আনার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং শিক্ষার মূল লক্ষ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের থাকা প্রয়োজন, যাঁরা শিক্ষা, প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়ে দায়িত্বশীল এবং শিক্ষার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। শুধু স্থানীয় প্রভাব বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে কমিটি গঠিত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। তাই এ ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তাই শুধু ফুল, আলোচনা সভা আর প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষকদের বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। বৈষম্য দূরীকরণের অন্যতম প্রধান উপায় হতে পারে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ধাপে ধাপে সামগ্রিকভাবে জাতীয়করণের আওতায় আনা। একই সঙ্গে নতুন স্কুল-কলেজ স্থাপনের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা ও নির্ধারিত শর্তের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন ও শিক্ষার্থীসংখ্যা বিবেচনা না করে যত্রতত্র নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদন বা স্থাপনের ক্ষেত্রে যারা দায়িত্বে থেকে অনিয়ম করবেন, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
এ ক্ষেত্রে অনেকের মনেই বিশাল বাজেট বা অতিরিক্ত অর্থসংস্থানের প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে বাস্তবে দেশের বহু প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি স্কুল-কলেজের বিপুল পরিমাণ জমি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, মার্কেট ও নিজস্ব স্থায়ী আমানত রয়েছে। একযোগে বা ধাপে ধাপে জাতীয়করণের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয় ও সম্পদ সরকারি কোষাগারে অন্তর্ভুক্ত করা হলে এবং একটি সমন্বিত জাতীয় ফান্ডের অধীনে আনা সম্ভব হলে, সরকারিকরণে রাষ্ট্রের অতিরিক্ত খুব বেশি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে না। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি, বেতন-ভাতা, অবসর ও কল্যাণ সুবিধা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে।
শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগও বাড়াতে হবে। দেশের দ্রুত ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে আগামী অর্থবছর থেকেই শিক্ষা খাতে অন্তত জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ, অবকাঠামো ও গবেষণার সুযোগ বাড়াতে এ বিনিয়োগ প্রয়োজন।
শিক্ষককে যদি আমরা সত্যিই জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা মনে করি, তাহলে তাঁদের জীবন ও পেশাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে মানসম্মত শিক্ষা আশা করা কঠিন। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের প্রশংসা করা সহজ; কিন্তু তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই হবে প্রকৃত সম্মান। প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবার ভুলে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবসম্মত, বৈষম্যহীন ও দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা নীতি গ্রহণ করতে হবে। কারণ শিক্ষকের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে শুধু একজন শিক্ষকের জীবনকে নিরাপদ করা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ
ফরিদপুর সিটি কলেজ
Email: mmrrajbari71@gmail.com
