ভাঙ্গা : ফরিদপুরে দেশীয় অস্ত্র হাতে মহাসড়কের অন্তত ৫টি এলাকায় অবরোধ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের অনুরোধে সকল স্থান থেকে অবরোধ তুলে নেয় আওয়ামী লীগের সমর্থকরা। এসময় আওয়ামী লীগের তিন নেতাকর্মীকে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়।
তবে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুটি মহাসড়কসহ ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল কম দেখা গেছে।
এছাড়া কর্মসূচি চলাকালীন এক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড, মুনসুরাবাদ এলাকায় অবরোধ করেন।
এছাড়া ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পুখুরিয়া, মাধবপুর, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পুলিয়া এলাকায় অবরোধ করেন।
এসময় মহাসড়কে গাছের গুড়ি ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া শিশুদের হাতে দেশীয় অস্ত্র রামদাসহ লাঠি হাতে সড়কে অবস্থান করতে দেখা যায়।
পরে পুলিশের অনুরোধে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সকল স্থান থেকে অবরোধ তুলে নেন।
দুপুরে ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অন্যদিনের তুলনায় যান চলাচল একেবারেই কম রয়েছে।
সড়কগুলোতে পণ্যবাহী যান চলাচল দেখা গেলেও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস চলাচল দেখা যায়নি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে টহল দিতে দেখা যায়।
ফরিদপুর বাসমালিক কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত তারা সকল পথে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন।
গোল্ডেন লাইন বাস কাউন্টারের ম্যানেজার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, সকাল ছয়টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি কামরুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, আমরা বাস চালাতে চাই, তবে যাত্রী না পেলে তো বাস চালানো সম্ভব নয়। খালি বাস নিয়ে তো আর পথে নামা যায় না।
সকাল থেকেই মহাসড়কটির ওপর গাছের গুড়ি ফেলে রেখে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এতে শতাধিক স্থানীয় নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র রামদা, ঢাল-সরকি হাতে মহাসড়কে অবস্থান করছেন।
এসময় নারীদের পাশাপাশি প্রায় ১০ শিশুকে হেলমেট মাথায় ও লাঠিশোটা হাতে সড়কে অবস্থান করে, তাদের মধ্যে একটি শিশুর হাতে রামদা নিয়ে শ্লোগান দিতে দেখা যায়। এতে ঢাকামুখী যানবাহনসহ সড়কের দুইপাশে বেশকিছু যানবাহন আটকা পড়ে।
স্থানীয়রা জানায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা থেকে গোপালগঞ্জমুখী এলাকাটি আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত। লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণার পর এছাড়া এলাকাটিতে পূর্ব থেকেই ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীরা অবস্থান করেন। ভোর থেকেই কয়েকজন নেতাকর্মী লকডাউনের সমর্থনে সড়কে অবস্থান নেন এবং পরে অন্যান্যরা যোগ দিয়ে পুরো রাস্তা অবরোধ করেন।
এতে সাবেক এমপি ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর সমর্থকদের অনেককে দেখা যায়। এছাড়া অবরোধকারীদের “আমরা সবাই নিক্সন সেনা, ডাক দিয়েছেন নিক্সন ভাই, ঘরে থাকার সময় নাই” সহ বিভিন্ন শ্লোগান দিতে দেখা যায়।
এদিকে বেলা ১১ টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের নূরপুর বটতলা এলাকায় এনসিপির উপজেলা সমন্বয়ক মোহাম্মাদ আশরাফের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের তিন নেতাকর্মীকে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়।
তাদের মধ্যে রয়েছেন পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক আরিফুর রহমান পথিক তালুকদার এবং অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ বলেন, “তারা নাশকতার জন্য এসেছিল, পরে স্থানীয়রা ধরে পুলিশে দেয়া।”
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ হোসেন দেশকাল নিউজকে বলেন, “তিন ব্যক্তিকে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা, তারা থানা হেফাজতে রয়েছেন। এছাড়া বেলা ১১টা থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”
