স্যুটাফ রিপোর্টার:
যুক্তি চিন্তা ,সৃজনশীলতা ও বন্ধুত্বের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ফরিদপুরে পর্দা নামলো তিন দিনব্যাপী এফডিএফ জাতীয় বিতর্ক উৎসবের।
আজ শনিবার সন্ধায় স্থানীয় কবি জসীম উদ্দীন হলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের সমাপনী ঘোষণা করেন ফরিদপুর সদর ৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। সমাপনী আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ফরিদপুর ডিবেট ফোরামের দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত ‘মহা কোলাহলে আরম্ভ হলো দিনের মহোৎসব’ নামের স্মরণিকার মোরক উন্মোচন করেন।
উৎসবের চূড়ান্ত পর্ব ও সমাপনী আয়োজনে ফাইনাল বিতর্কের পাশাপাশি পুরস্কার বিতরণী ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এবারের উৎসবের পর্দা নামে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। সবশেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন অকোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান, ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম আব্দুল হালিম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম স্ট্যালিন ও ফরিদপুর জজ কোর্টের পিপি গোলাম রাব্বানী ভূইয়া রতন। ফরিদপুর ডিবেট ফোরামের সভাপতি ফাহমিদা মফিজ সৃষ্টির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুল আলম হিমালয়।
ফরিদপুর ডিবেট ফোরাম (এফডিএফ) আয়োজিত ‘চতুর্দশ জাতীয় বিতর্ক উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিতার্কিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
উৎসবের টুর্নামেন্ট পর্ব অনুষ্ঠিত হয় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ডিগ্রি শাখায়। এতে ফরিদপুরের ২৬টি স্কুল দল, ১২টি কলেজ দল এবং ওপেন সেগমেন্টে ১৬টি দল অংশগ্রহণ করেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের বিতার্কিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয়েছে যুক্তি, চিন্তা ও তারুণ্যের এক মিলনমেলায়।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ৩২টি স্কুল ও কলেজ এবং ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী ১৬টি ওপেন এপি বিতর্ক দল। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিতার্কিকদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এবারের উৎসব প্রাঙ্গণ। যুক্তি, জ্ঞান, চিন্তা ও মননশীলতার চর্চায় মুখরিত ছিল পুরো আয়োজন।
আয়োজকরা জানান, এই উৎসব কেবল একটি প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন নয়; বরং এটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের মিলনমেলা, যেখানে যুক্তি, চিন্তা, সৃজনশীলতা ও বন্ধুত্বের বিনিময় ঘটবে। দুই দশকের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য আরও সমৃদ্ধ বিতর্কচর্চার পরিবেশ তৈরির প্রত্যয় নিয়েই এবারের আয়োজন করা হয়েছে।এবারের উৎসব পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের প্রতি উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ দৃঢ় করার প্রত্যাশা করছে আয়োজক সংগঠন।
